Abstract
রফিক আজাদের কবিতায় নিসর্গ-প্রকৃতির বহুস্তর প্রকাশ পরিলক্ষিত হয়। একদিকে কাব্যিক প্রকল্প হিসেবে প্রকৃতি কবির নান্দনিকবোধের বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে কাব্যচর্চার বিশেষ পর্যায়ে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় কবির উচ্চকণ্ঠ গ্রহীয় অস্তিত্বের প্রতি দায়বদ্ধতার স্মারক। প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্যে প্রকৃতি যেভাবে কবির বোধের বাহন না হয়ে যথাসম্ভব তার স্বরূপে উপস্থাপিত হত, রফিক আজাদের প্রকৃতি তেমনটি নয়; বরং প্রকৃতির ভেতর তিনি নিজেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েন। কাব্যসাধনার দীর্ঘ পরিক্রমায় সমকালীন আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পট-পরিবর্তন ও সাংস্কৃতিক অভিঘাতের ফলে কবিচৈতন্যের যে রূপ-রূপান্তর, প্রকৃতির সাহচার্যে ঘটে তার কাব্যিক প্রকাশ। ফলে প্রাক্-স্বাধীনতা পর্বের কাব্যে প্রকৃতি এবং স্বাধীনতা-উত্তর পর্বের কাব্যে প্রকৃতি সমান্তরাল অনুধ্যানে বিধৃত নয়। আলোচ্য প্রবন্ধে রফিক আজাদের প্রকৃতি-ভাবনা রাষ্ট্রের বিচিত্র অভিঘাতে কী ধরনের নান্দনিক মাত্রা পরিগ্রহ করেছে সেই দিকে আলোকপাত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় তাঁর প্রকৃতি-ভাবনার স্বরূপ উদ্ঘাটনের প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। গবেষণা পদ্ধতি হিসেবে গুণগত (Qualitative) ও পাঠ-কেন্দ্রিক বিশ্লেষণ (Texual Analysis) পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। রফিক আজাদের কবিতার ভেতরকার শব্দচয়ন, রূপক, প্রতীক, চিত্রকল্প প্রভৃতি বিশ্লেষণ করে কবির নান্দনিক বোধের পরিচয় উন্মোচনের পাশাপাশি দেখানো হয়েছে নিসর্গ-প্রকৃতির প্রতি কবির গভীর দায়বদ্ধতা। তাত্ত্বিক কাঠামো (Theoretical Framework) হিসেবে ইকোক্রিটিসিজমের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
Authors
- বিল্লাল — হোসেন